বাংলাদেশের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা ও তার সমাধান,বাংলাদেশের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা,বাংলাদেশের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের উপায়,

বাংলাদেশের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা ও তার সমাধান,বাংলাদেশের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা,বাংলাদেশের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের উপায়,

Q&A লেখাপড়া

বিষয়: বাংলাদেশের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা ও তার সমাধান,বাংলাদেশের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা,বাংলাদেশের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের উপায়,

ভূমিকা: বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় খুবই কম। মাত্র ২৮৩ আমেরিকান ডলার (এশিয়া উইক ৭ ফেব্রুয়ারি, ‘৯৮)। ১ ডলার প্রায় ৪৬ টাকার সমান। ফলে এ দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান বেশ নিচে। আমাদের দেশে অসংখ্য সমস্যা রয়েছে। এ সমস্যাগুলাে কি তা আমাদের জানা প্রয়ােজন। সমস্যাগুলাে শুধু চিহ্নিত করলেই চলবে না। এগুলাে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। আমাদের অনগ্রসরতার জন্য যে সব সমস্যা দায়ী সেগুলােকে আমরা মৌলিক সমস্যা বলি। বাংলাদেশের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যাগুলাে হচ্ছে- কৃষির অনগ্রসরত, বেকারত্ন, জনসংখ্যা সমস্যা, খাদ্য ঘাটতি, শিল্পের অনগ্রসরতা, মূলধনের অভাব, অনুন্নত যাতায়াত ও যােগাযােগ ব্যবস্থা, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব, সম্পদের স্বল্পতা ইত্যাদি। এ সমস্যাগুলাে সম্পর্কে সবার ধারণা থাকতে হবে। তবেই আমরা এর সমাধানের পথ খুঁজে পাব। আলােচ্য অধ্যায়ে বাংলাদেশের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যাবলী এবং এদের সমাধানের উপায় সম্পর্কে আলােচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা উদ্দেশ্য :

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। দীর্ঘদিন বিদেশীরা এই দেশটি শাসন করেছে। ফলে এদেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে তেমন উন্নতি লাভ করতে পারেনি। এখন বিদেশীদের শাসন নেই, কিন্তু আমাদের দেশে বেশ কিছু মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা রয়েছে যেগুলাে আমাদের উন্নয়নের পথে বাধার সৃষ্টি করছে। এবার আসুন এসব মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা সম্পর্কে আলােচনা করি। এগুলাে নিম্নরূপ :

১। কৃষির অনগ্রসরতা : বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষির উপর নির্ভরশীল। এ দেশের শ্রমশক্তির শতকরা প্রায় ৬৬ আছে। দেশে যে উৎপাদন হয় তার প্রায় শতকরা ৩৫ ভাগ কষি হতে আসে। এ থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, আমাদের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু আমাদের কৃষিব্যবস্থা অনুন্নত এবং হেক্টর প্রতি উৎপাদন কম। এর কারণ প্রাচীন চাষপদ্ধতি, কৃষি ঋণের অভাব, জলসেচের অভাব, বাজার ব্যবস্থার ত্রুটি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ত্রুটিপূর্ণ ভূমি ব্যবস্থা ইত্যাদি।

২। শিল্পের অনগ্রসরতা : শিল্প ছাড়া শুধু কৃষির উপর নির্ভর করে দেশের অর্থনীতি উন্নত করা যায় না। তাই শিল্পখাতের উন্নয়ন প্রয়ােজন। কিন্তু এ দেশের জাতীয় আয়ে শিল্পের অবদান মাত্র শতকরা ১১ ভাগ। এর কারণ কি? কারণ মূলধনের অভাব, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির অভাব, সুষ্ঠু শিল্পনীতির অভাব, অনুন্নত পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিনের পরাধীনতা শিল্প বিকাশের পথে বাধার সৃষ্টি করছে।

৩ ।খাদ্য ঘাটতি : খাদ্য ঘাটতি আমাদের একটি স্থায়ী সমস্যা। কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশকে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ খাদ্য আমদানি করতে হয়। এতে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার একটা বিরাট অংশ ব্যয় হয়। ফলে উন্নয়ন বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।

৪। দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্তরায়। আমাদের দেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা রয়েছে। তাই অর্থনৈতিক উন্নতি ব্যাহত হচ্ছে। মানুষের জীবনধারণও বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

৫। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি : একটি দেশের জনসংখ্যা দেশের সম্পদ। কিন্তু জনসংখ্যা জনশক্তিতে পরিণত না হলে তা সম্পদের পরিবর্তে সমস্যায় পরিণত হয়। বাংলাদেশের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সেই জনসংখ্যা ঠিকমত জনশক্তিতে পরিণত হচ্ছে না। বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শতকরা প্রায় ১.৯ ভাগ।

বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১১১ মিলিয়ন (আদমশুমারি – ১৯৯১)। এ দেশের প্রতি বর্গকিলােমিটারে প্রায় ৭৫৫ জন লােক বাস করে। এই বিপুল জনসংখ্যা আমাদের সীমিত সম্পদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে খাদ্য সমস্যা, বেকার সমস্যা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থান সমস্যা তীব্রভাবে দেখা দিয়েছে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

৬। দক্ষ শ্রমিকের অভাব : শিল্প-কারখানা স্থাপনের জন্য দক্ষ জনশক্তি প্রয়ােজন। আমাদের দেশে জনসংখ্যা বেশি হলেও শ্রমিকদের নৈতিকতার মান ও দক্ষতা খুবই কম। ফলে তাদের উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে। কাজেই দক্ষ শ্রমিকের অভাবে আমাদের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে

৭। বেকার সমস্যা : জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় আমাদের দেশে কর্মসংস্থানের সুযােগ কম। ফলে বেকার সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার শতকরা প্রায় ২২ ভাগ (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা – ১৯৯৫)। এছাড়া কৃষিক্ষেত্রে ছদ্মবেশী বেকারত্ব বিরাজ করছে (অর্থাৎ কৃষিখাতে প্রয়ােজনের অতিরিক্ত লােক নিয়ােজিত আছে)।

৮৷ দক্ষ উদ্যোক্তা বা সংগঠকের অভাব : কোন দেশের শিল্পের বিকাশ ঘটানাের জন্য দক্ষ উদ্যোক্তা বা সংগঠকের প্রয়ােজন আছে। অথচ বাংলাদেশে দক্ষ সংগঠকের অভাব রয়েছে। ফলে এখানে শিল্পের বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।

৯। অনুন্নত অবকাঠামাে : কোন দেশের উন্নতির জন্য প্রয়ােজন উন্নত সামাজিক অবকাঠামাে (যেমন- স্কুল, কলেজ, দাতব্য চিকিৎসালয়, হাসপাতাল, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ইত্যাদি) এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামাে (যেমন— যাতায়াত ও যােগাযােগ ব্যবস্থা, রেলপথ, বাঁধ, বিদ্যুৎশক্তি, বন্দর, সেচ ব্যবস্থা ইত্যাদি)। বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামাে অনুন্নত ও দুর্বল। ফলে আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে।

১০। মূলধনের অভাব : আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। তাদের আয় ও সঞ্চয় কম। এদেশের সঞ্চয়ের হার মােট জাতীয় আয়ের শতকরা ৮ ভাগ মাত্র। ফলে দেশে মূলধন গঠনের হার ও বিনিয়ােগ কম।

১১। সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের অসুবিধা : বাংলাদেশ গ্রাম প্রধান। গ্রামের উন্নতির উপর দেশের উন্নতি নির্ভরশীল। অথচ এখন পর্যন্ত এদেশে গ্রামভিত্তিক কোন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলােরও সঠিক বাস্তবায়ন হয়নি। তবে বর্তমানে গ্রামীন ব্যাংক গ্রাম উন্নয়নের বাস্তবসম্মত কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

১২। বৈদেশিক সাহায্যের অনুৎপাদনশীল ব্যবহার : আমাদের সম্পদ কম। তাই আমাদেরকে বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হয়। অথচ বৈদেশিক সাহায্য বা ঋণের অধিকাংশই অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয়। সঠিক নীতির অভাবে এর অপচয় হয়।

১৩। বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি : বাংলাদেশ রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি করে। ফলে বিদেশের সাথে আমাদের দেনা-পাওনার ভারসাম্য প্রতিকূল থাকে।

১৪। সম্পদের স্বল্পতা : আমাদের দেশ প্রাকৃতিক সম্পদে তেমন সমৃদ্ধ নয়। প্রাকৃতিক সম্পদ যতটুকু পাওয়া গেছে তারও যথার্থ ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। জাতীয় আয় এবং জনগণের মাথাপিছু আয়ও বাড়ানাে সম্ভব হচ্ছে না।

১৫৷ সম্পদের অসম বন্টন : আমাদের দেশে সম্পদের একটা বড় অংশ মুষ্টিমেয় লােকের হাতে কেন্দ্রীভূত। এ কারণে অধিকাংশ মানুষের জীবনযাত্রার মান নিচু।

১৬। শিক্ষার অনগ্রসরতা : অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের দেশে শতকরা প্রায় অর্ধেক লােক অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। বাকি প্রায় অর্ধেক লােক নিরক্ষর। ফলে জনগণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশগ্রহণে অক্ষম। ১৭৷ দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র : আমাদের দেশে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিরাজমান। এ কারণে আমাদের উন্নতি ব্যাহত হচ্ছে। দারিদ্রের দুষ্টচক্রের মূলকথা হচ্ছে – “একটি দেশের দারিদ্র্যের কারণ সে দরিদ্র।” অর্থাৎ দরিদ্র দেশের পশ্চাদপদতার কারণ হচ্ছে দারিদ্র। অনুন্নত দেশে উৎপাদন কম বলে লােকের আয় কম, আয় কম বলে সঞ্চয় কম, সঞ্চয় কম বলে মূলধন গঠন ও বিনিয়ােগ কম। বিনিয়ােগ কম বলে উৎপাদন কম। এভাবে দরিদ্র দেশগুলাে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ৷ এসব ছাড়াও ধর্মীয় গােড়ামি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অদক্ষ প্রশাসন, দুর্নীতি, অদৃষ্টবাদিতা প্রভৃতি আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি করছে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

বাংলাদেশের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের উপায়।

বাংলাদেশের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায় সে সম্পর্কে বলতে পারবেন। বাংলাদেশে অনেক মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা রয়েছে। সমস্যাসমূহের সমাধানের উপায়ও অবশ্যই থাকবে। তাহলে আসুন বাংলাদেশে বিদ্যমান মৌলিক সমস্যাগুলাে সমাধানের উপায় নিয়ে আলােচনা করি। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

আরো ও সাজেশন:-

১।উন্নয়ন : বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। জাতীয় আয় বৃদ্ধির জন্য কৃষির উন্নয়ন অপরিহার্য। এর মাধ্যমে জনগণের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। কৃষির উন্নয়নের জন্য কৃষিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এছাড়া কৃষি ঋণের পরিমাণ বাড়াতে হবে। কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য আমদানির জন্য যে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয় তা দিয়ে শিল্পের প্রয়ােজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি করা সম্ভব হবে।

২। শিল্পােন্নয়ন : কৃষির পাশাপাশি শিল্পােন্নয়ন আবশ্যক। বেকার সমস্যার সমাধান এবং আমাদের প্রচুর জনশক্তি ও দেশীয় কাঁচামালের সদ্ব্যবহারের জন্য শিল্পােন্নয়ন প্রয়ােজন। শিল্পের উন্নতি ছাড়া দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সুতরাং দেশকে দ্রুত শিপায়িত করার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শিল্পের উন্নয়নের জন্য একটি আধুনিক শিল্পনীতি প্রয়ােজন। শুধু নীতি নির্ধারণ করলেই চলবে না। শিল্প স্থাপন ও পরিচালনার জন্য বিবিধ সুযােগ-সুবিধা দিয়ে দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে।

৩। শিক্ষা বিস্তার : সাধারণ শিক্ষা, পেশাগত ও কারিগরি শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এর ফলে উন্নয়নের পথ সুগম হবে।।

৪৷ মুদ্রাস্ফীতি রােধ : উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সঠিক রাজস্ব নীতি অনুসরণ করে মুদ্রাস্ফীতি রােধ করা সম্ভব। উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বর্ধিত হারে শিল্প স্থাপন করতে হবে। এর ফলে জনগণের খরচ কমবে, আয় বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

৫৷ দক্ষ সংগঠক বা উদ্যোক্তা সৃষ্টি : শিল্পে ঝুঁকি বহন করতে পারে এমন সাহসী ও উদ্যোগী সংগঠক তৈরি করতে হবে। এজন্য সরকারি পৃষ্ঠপােষকতা প্রয়ােজন। এছাড়া বিনিয়ােগের ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

৬। দক্ষ জনশক্তি কোন দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়ােজন দক্ষ জনশক্তি। সাধারণ শিক্ষা, পেশাগত ও কারিগরি শিক্ষা প্রদান এবং উপযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।

৭। জনসং রাধ : দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি বাংলাদেশের একটি প্রধান সমস্যা। জনসংখ্যা বৃদ্ধি রােধ করতে পারলে বেকার সমস্যা হ্রাস পাবে এবং জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাবে। পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানাে যেতে পারে।

[ বি:দ্র: নমুনা উত্তর দাতা: রাকিব হোসেন সজল ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (বাংলা নিউজ এক্সপ্রেস)]

৮। বেকার সমস্যার সমাধান : বেকার সমস্যা দূর করতে হলে ব্যাপক হারে শিল্প-কারখানা স্থাপন করতে হবে। আমাদের দেশে শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। তাই যেসব শিল্পে অধিক হারে শ্রমিক নিয়ােগ করা যায় সেসব শিল্প স্থাপন করতে হবে। এতে অধিকাংশ কর্মক্ষম লােক কাজের সুযােগ পাবে এবং বেকার সমস্যার কিছুটা সমাধান হবে।

৯। পরিবহন ও যােগাযােগ ব্যবস্থার উন্নয়ন : অর্থনৈতিক উন্নতির পূর্বশর্ত উন্নত পরিবহন ও যােগাযােগ ব্যবস্থা। এর উপর দেশের কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নতি নির্ভর করে। তাই পরিবহন ও যােগাযােগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১০৷ মূলধন বৃদ্ধি : কৃষি, শিল্প তথা অর্থনৈতিক উন্নয়নে মূলধনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই মূলধনের সমস্যা দূর করতে হলে সঞ্চয়ের হার বাড়াতে হবে।

১১।কল্পনা প্রণয়ন : বাংলাদেশের সার্বিক উন্নতির জন্য গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়ােজন। গ্রামাঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যাতায়াত ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের সুযােগ বৃদ্ধি করতে হবে। তাছাড়া মৌসুমী বেকারত্ব দূর করার জন্য গ্রামাঞ্চলে কুটির শিল্প উন্নয়নের উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

১২। বৈদেশিক সাহায্যের যথাযথ ব্যবহার : প্রতি বছর আমরা প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য পেয়ে থাকি। এগুলাের যাতে অপচয় না হয় এবং সঠিক ব্যবহার হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। তবেই দেশের উন্নতি সম্ভব।

১৩৷ আমদানির উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস : আমাদের আমদানি বেশি, রপ্তানি কম। উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানি হ্রাস এবং রপ্তানি বাড়াতে হবে। তাহলে আমরা বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব। এর সাহায্যে আমরা বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি করে শিল্পের দ্রুত উন্নতি করতে পারব।

১৪৷ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার : বাংলাদেশে যেসব প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে (যেমন- গ্যাস, কয়লা, তেল, চুনাপাথর, কঠিন শিলা ইত্যাদি. তার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে আমাদের উন্নতি ত্বরান্বিত হবে এবং জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাবে।

১৫৷ দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র : দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্রের দুষ্টচক্র দূর করতে হবে। এর জন্য সঞ্চয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক ঋণের সুষ্ঠু ব্যবহার, উৎপাদন বৃদ্ধি প্রভৃতি পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া প্রশাসন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, দীর্ঘসূত্রিতা দূর, দুর্নীতি দমন ও কুসংস্কার দূর করতে হবে। এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে আমাদের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে।

আমরা আছি নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুলোতে ও

Leave a Reply

Your email address will not be published.